শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২১ অপরাহ্ন
বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর হানা, মশার দাপট অপ্রতিরোধ্য!
অনলাইন ডেস্ক
বর্ষা এখনও শুরু হয়নি, অথচ রাজধানীতে ডেঙ্গু যেন আগেই হানা দিয়েছে! প্রতিদিন গড়ে ৫০ জনের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ছুটছেন হাসপাতালে। রাজধানীর অলিগলি, খাল-ড্রেন আর নির্মাণাধীন ভবন ঘিরে মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে নাগরিকদের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। অথচ দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রতিরোধ কার্যক্রম যেন লোক দেখানো নাটকেই সীমাবদ্ধ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত রাজধানীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২,৫০০ জন। মৃত্যুর সংখ্যা ইতিমধ্যে ২০ ছুঁই ছুঁই। এটি আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
নাগরিকদের অভিযোগ, দিন হোক বা রাত—মশার অত্যাচার থেমে নেই। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় খোলা ড্রেন, জলাবদ্ধতা, ফেলে রাখা নির্মাণ সামগ্রী আর জমে থাকা পানিতে জন্ম নিচ্ছে এডিস মশার ঝাঁক। অথচ যেখানে সময় থাকতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল, সেখানে চলছে দায়সারা ফগিং আর মশার ওষুধ ছিটানোর ‘ডেমো শো’।
এদিকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবারের বাজেটে মশা নিয়ন্ত্রণে ৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। উত্তর সিটির বরাদ্দ ১১০ কোটি হলেও দৃশ্যমান কার্যক্রম তেমন নেই।
দক্ষিণ সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন বলেছেন, ‘জনগণ যদি সচেতন হয়, তাহলে ডেঙ্গু নির্মূল সম্ভব।’ তিনি চিরুনি অভিযান ও সমন্বিত কার্যক্রমের কথা বললেও বাস্তবে এখনও তার প্রমাণ মেলে না।
উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ অবশ্য নতুন উদ্যোগের কথা বলেছেন। তার দাবি, সেনাবাহিনী এবার মশা মারার ওষুধ ছিটাবে, বসানো হবে ১,০০০ মশা ধরার ট্র্যাপ। এমনকি প্রতিটি হাসপাতালে আলাদা ডেঙ্গু ইউনিট খোলারও পরিকল্পনা চলছে, বেসরকারি হাসপাতালও বাদ যাবে না।
এদিকে কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বদরুল আলম আরও ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বর্ষার আগেই যদি প্রজননস্থল ধ্বংস না করা যায়, তাহলে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর মতে, ফগিং কেবল লোক দেখানো কাজ, যা আসলে মশার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণে কোনো কাজে আসে না। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি, গবেষণা-নির্ভর পরিকল্পনা—নইলে ডেঙ্গু রীতিমতো মহামারিতে রূপ নেবে।